সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

“আমি কি তাকাব আকাশের দিকে / বিধির বিচার চেয়ে?”

“আমি কি তাকাব আকাশের দিকে / বিধির বিচার চেয়ে?”

ক্রন্দনরতা জননীর পাশে, - আমি কি তাকাব আকাশের দিকে / বিধির বিচার চেয়ে
“আমি কি তাকাব আকাশের দিকে / বিধির বিচার চেয়ে?”
    ক) কে, কোন্ প্রসঙ্গে কাদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেছেন?
    খ) তিনি কোন্ বিচারের কথা উল্লেখ করেছেন?
    গ) তাঁর মনে এই দ্বন্দ্বমূলক প্রশ্ন জাগার কারণ কী?
    ঘ) তিনি বিধির বিচার প্রত্যাশা করেন না কেন?
    ঙ) এই মন্তব্যের তাৎপর্য আলোচনা করো।

    ক) কে, কোন্ প্রসঙ্গে কাদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেছেন?

    কবি মৃদুল দাশগুপ্তের ‘ধানক্ষেত থেকে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে।

    এই কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, শিল্পের জন্য কৃষি জমি অধিগ্রহণ করার প্রতিবাদে কৃষি জমি রক্ষা কমিটি কৃষক আন্দোলনের ডাক দেয়। এই আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলার রাজনীতি। এক পর্যায়ে এই আন্দোলন ও তার পাল্টা আন্দোলন হিংসাশ্রয়ী রূপ নেয় । একের পর এক সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে থাকে বাংলা জুড়ে। কবি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কারও ভাই অথবা মেয়ের ছিন্নভিন্ন লাশ দেখে অন্তত ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। সেই সঙ্গে এও লক্ষ্য করেন, নাগরিক সমাজের একটা বড় অংশই এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদ না করে আশ্চর্যজনকভাবে নিরব থাকছেন। এই পরিস্থিতিতে সমাজ সচেতন ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবি এই নির্বিকার ও নীরব হয়ে থাকা সহ-নাগরিকদের বিবেকের কাছে এই প্রশ্ন করেছেন।

    খ) তিনি কোন্ বিচারের কথা উল্লেখ করেছেন?

    জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আলোচ্য সময়ে একের পর মানুষ নিখোঁজ হয়। পরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এই সব মানুষের ছিন্নভিন্ন শবদেহ উদ্ধার হয় জঙ্গল সহ নানান জায়গা থেকে। সামাজিক মূল্যবোধ ও সংবেদনশীল মনের অধিকারী কবির কাছে এই মৃত্যু জঘন্য অন্যায়। এই অন্যায়ের বিচারের কথাই কবি তার কবিতায় উল্লেখ করেছেন।

    গ) তাঁর মনে এই দ্বন্দ্বমূলক প্রশ্ন জাগার কারণ কী?

    কবি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন, এই জঘন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সমাজের অধিকাংশ মানুষই নীরব থাকছেন। কবি এই নীরবতার কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। বোঝার চেষ্টা করেছেন
    এই মানুষগুলো কেন এবং কীভাবে ভাবে প্রতিবাদ না করে সমাজের এই অবক্ষয়কে মেনে নিচ্ছেন? কবির ভাবনায়, এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। তবে কি তারা বিধির কাছে বিচার দিয়েই নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন? কবির কথায়,
    আমি কি তাকাবো আকাশের দিকে
    বিধির বিচার চেয়ে?
    বস্তুত নাগরিক সমাজের এভাবে নীরব থাকার কারণ খুঁজতে গিয়েই তার মনে এই দ্বন্দ্বমূলক প্রশ্ন জেগেছে।

    ঘ) তিনি বিধির বিচার প্রত্যাশা করেন না কেন?

    কবি মৃদুল দাশগুপ্ত একজন বাস্তববাদী চিন্তাবিদ। তার যুক্তিবাদী ও সংবেদনশীল মন বিধির বিচারের আশায় বসে থাকতে পারে না। আসলে তিনি বিশ্বাস করেন না যে, এভাবে অন্যায়ের বিচার সম্ভব। বিশ্বাস করেন না বলেই তিনি বিধাতার বিচারের আশায় বসে থাকতে পারেন না। সে কারণেই তিনি তাঁর কবিতায় স্পষ্ট করেছেন এই বলে যে,
    অমি তা পারি না।
    এভাবে কবি বিধাতার বিচারের প্রত্যাশা করেন না বলেই তিনি গর্জে উঠেছেন তাঁর কবিতায় :
    ....................যা পারি কেবল
    সে-ই কবিতায় জাগে
    আমার বিবেক আমার বারুদ
    বিস্ফোরণের আগে।

     ঙ) এই মন্তব্যের তাৎপর্য আলোচনা করো।

    আসলে কবি মৃদুল দাশগুপ্ত একজন সৃষ্টিশীল কবি। যার মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের চাষ হয়। যুক্তিবাদদের আলোয় সে মূল্যবোধ অঙ্কুরিত হয় তারপর বেড়ে ওঠে। জন্ম নেয় এক সংবেদনশীল মন যা তাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বাধ্য করে। তাই তাঁর কলম দিয়ে নির্দ্বিধায় বেরিয়ে আসতে পারে নিহত ভাইয়ের শবদেহ দেখে ক্রুদ্ধ হওয়ার কাব্যিক বয়ান :
    নিহত ভাইয়ের শপদেহ দেখে
    না-ই যদি হয় ক্রোধ
    কেন ভালোবাসা, কেন বা সমাজ
    কিসের মূল্যবোধ!
    নিখোঁজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন হওয়া লাশ জঙ্গলে পাওয়ার খবর পেয়ে নির্দ্বিধায় বিধাতার বিচারের দায়িত্বকে উপেক্ষা করতে পারেন। বলতে পারেন,
    আমি কি তাকাবো আকাশের দিকে
    বিধির বিচার চেয়ে
    সমাজের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে বাংলা মায়ের সন্তানের পাশে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে ঘোষণা করতে পারেন :
    সে-ই কবিতায় জাগে
    আমার বিবেক, আমার বারুদ
    বিস্ফোরণের আগে।

    অর্থাৎ কবির কাছে তার কবিতা হল তাঁর বিবেক যা বারুদ হয়ে বিস্ফোরণ বা বিপ্লবের অপেক্ষায় দিন গুনছে।

    এভাবে কবি সামাজিক দায়বদ্ধতার যে ছবি তৈরি করেছেন তার কবিতার মাধ্যমে তা শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে শিল্পী সত্তার চিরকালীন প্রতিবাদের ইঙ্গিত বহন করে। যেখানে বিধির বিধান কিম্বা বিচার একেবারেই আবশ্যিক নয়। মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ালে মানুষের অন্যায়ের বিচার বা মুক্তি সম্ভব।

    মন্তব্যসমূহ

    বাংলা বই : দ্বাদশ শ্রেণি - সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রশ্নোত্তর

    প্রবন্ধ : ভগিনী নিবেদিতা

    ভগিনী নিবেদিতা ভূমিকা : ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে ভগিনী নিবেদিতার নাম। পৈত্রিক সূত্রে তিনি ছিলেন স্কচ। আধুনিক ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী ও ধর্মনেতা স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ভারতবর্ষে আসেন। ব্রহ্মচর্যে দীক্ষা নেন। ভারতে সমাজ সেবা ও নারী শিক্ষার প্রসারেও নিবেদিতার ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জন্ম ও বংশ পরিচয় : ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের ২৮ অক্টোবর উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডানগ্যানন শহরে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল ছিলেন ধর্মযাজক। মায়ের নাম মেরি ইসাবেলা। মাত্র দশ বছর বয়সে মার্গারেটের বাবা মারা যান। তারপর তাঁর দাদামশাই তথা আয়ারল্যান্ডের বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী হ্যামিলটন তাঁকে লালনপালন করেন। শিক্ষাজীবন : মার্গারেট লন্ডনের চার্চ বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর হ্যালিফ্যাক্স কলেজে তিনি ও তাঁর বোন মেরি পড়াশোনা করেছিলেন। কর্মজীবন : ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে, সতেরো বছর বয়সে শিক্ষাজীবন শেষ করে মার্গারেট শিক্ষিকার পেশা গ্রহণ করেন। দু’বছরের জন্যে কেসউইকের একটি প্রাইভেট স্কুলে পড়ান। এরপরে একে ...

    ছাত্র জীবনে সৌজন্য ও শিষ্টাচার

    ছাত্র জীবনের সৌজন্য ও শিষ্টাচার মানব জীবনে শিষ্টাচার, ভদ্রতা ও সৌজন্যবোধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ভদ্রতা আত্মীয়তার চেয়ে কিছু কম এবং সামাজিকতার চেয়ে কিছু বেশি। - ইন্দিরাদেবী চৌধুরাণী ভূমিকা? ইংরেজীতে যাকে বলে Etiquette; good manners; formality; বাংলায় তাকেই বলে শিষ্টাচার। মানবজীবনের অত্যাবশ্যক গুণাবলির অন্যতম হল এই সৌজন্য ও শিষ্টাচার। দেহের সৌন্দর্ৎ বৃদ্ধি পায় যেমন অলঙ্কারে, তেমনি আত্মার সৌন্দর্য বাড়ে শিষ্টাচারে। অলঙ্কার বাইরের সামগ্রী আর শিষ্টাচার অন্তরের। এবং সৌজন্যবোধ হলো তার মার্জিত প্রাত্যহিক জীবনচর্চা। সৌজন্য ও শিষ্টাচারের বৈশিষ্ট্য : ১) জীবনবিকাশে র ক্ষেত্রে শিষ্টাচার, ভদ্রতা ও সৌজন্যবোধ অপরিহার্য । চলনে-বলনে, আচরণে, পোশাক-পরিচ্ছদে এবং ব্যক্তিত্ব, আভিজাত্য ও চারিত্রিক দীপ্তি প্রকাশেও এই গুণগুলো ক্রিয়াশীল থাকা জরুরি। ২) ঘরে বাইরে সর্বত্র শিষ্ট ও সৌজন্যমূলক আচরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে শিষ্টাচার হল একটি অপরিহার্য চারিত্রিক সম্পদ এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক ঐশ্বর্য । ৩) শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধ নিজের অসুবিধা সত্ত্বেয় পরের সুবিধা করে দিতে উৎসুক থাকে। শুধুমাত্র  আ...

    ভারতের জাতীয় সংহতি ও বিছিন্নতাবাদ

    ভারতের জাতীয় সংহতি ও বিছিন্নতাবাদ নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান্ — অতুল প্রসাদ সেন  ভূমিকা : জাতীয় সংহতি হল একটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে একটি সাধারণ পরিচয় সম্পর্কে সচেতনতা। এর অর্থ হল, আমাদের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং ভাষাগত পার্থক্য থাকলেও, আমরা এই সত্যকে স্বীকার করি যে, আমরা সবাই এক। এটি কেবল একটি জাতীয় অনুভূতি নয়, এটা সেই চেতনা যা সমস্ত উপভাষা ও বিশ্বাসের মানুষকে একই প্রচেষ্টায় একত্রিত করে। জাতীয় একীকরণের সংজ্ঞা: ডাঃ এস. রাধাকৃষ্ণ বলেছেন, national integration cannot be made by bricks and mortar, mould and hammer, but it quietly grows in people’s minds through education.1️⃣ এইচ এ গণি সংজ্ঞায়িত করেছেন, “National integration is a socio-psychological and educational process through which a feeling of unity and harmony develops in the hearts of the people and a sense of common citizenship or feeling of loyalty to the nation is fostered among them”2️⃣ এককথায়, জাতীয় সংহতির ধারণার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং মনস্তাত্ত্...

    সেই দুটি জ্বলন্ত চোখ শাস্তি চায়

    “সেই দুটি জ্বলন্ত চোখ শাস্তি চায়” ক) এখানে ‘কোন্ চোখে’র কথা বলা হয়েছে? অথবা, কার কথা বলা হয়েছে? খ) সে কীরূপ শাস্তি চায়? অথবা, সে কীভাবে শাস্তি চায়, বুঝিয়ে লেখো। গ) ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক কী উপলব্ধিতে উপনীত হয়েছিলেন? ঘ) লেখক তাকে কীভাবে এবং কেন সাহায্য করতে বলেছেন? ক) এখানে কোন্ ‘চোখে’র কথা বলা হয়েছে? অথবা, কার কথা বলা হয়েছে? সমাজ সচেতন প্রাবন্ধিক সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘হাত বাড়াও’ নিবন্ধে পঞ্চাশের মন্বন্তরের এক মর্মস্পর্শী ছবি তুলে ধরেছেন। এই রচনায় ১২-১৩ বছর বয়সি এক কঙ্কালসার দেহ-বিশিষ্ট ‘অদ্ভুত জন্তু’র মতো দেখতে এক নিরন্ন কিশোরের বর্ণনা রয়েছে। যার জ্বলন্ত চোখের দৃষ্টি ‘বুকের রক্ত হিম করে দেয়’। আলোচ্য উদ্ধৃতিতে এই কিশোর এবং তার জ্বলন্ত চোখের কথা বলা হয়েছে। খ) সে কীরূপ শাস্তি চায়? অথবা, সে কীভাবে শাস্তি চায় বুঝিয়ে লেখো। এই জ্বলন্ত চোখ দুটি শাস্তি চায়। শাস্তি চায় সেইসব খুনি মানুষদের, যারা শহরে, গ্রামে গঞ্জে, নগর বন্দরে ‘জীবনের গলায় মৃত্যুর ফাঁস পরাচ্ছে’। মানুষকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দিচ্ছে না। তার সরু লিকলিকে আঙুল দিয়ে সে যেন সেইসব ...

    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    প্রবন্ধ রচনা : মাইকেল মধুসূদন দত্ত ভূমিকা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত একাধারে একজন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল। মায়ের নাম জাহ্নবী দেবী। শিক্ষাজীবন : মধুসূদন দত্ত শিক্ষা গ্রহণ পর্ব শুরু হয় মায়ের তত্ত্বাবধানে সাগরদাঁড়ির পাঠশালায়। পরে সাত বছর বয়সে কলকাতা আসেন এবং খিদিরপুর স্কুলে দুবছর পড়ার পর ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।  এখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, রাজেন্দ্রলাল মিত্র, রাজনারায়ণ বসু, গৌরদাস বসাক প্রমুখ, যাঁরা পরবর্তী জীবনে স্বস্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কলেজের পরীক্ষায় তিনি বরাবর বৃত্তি পেতেন। এ সময় নারীশিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। এ সময় থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন বিলেত যাওয়ার। তাঁর ধারণা ছিল বিলেতে যেতে পারলেই বড় কবি হওয়া যাবে।  এই উদ্দেশ্যেই ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিস্ট...

    ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য

    ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা করো। —২০১৫ ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য ভূমিকা : নাট্যকার অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘ নানা রঙের দিন ’ একটি ‘ একাঙ্ক নাটকে ’র অনিন্দ্য সুন্দর উদাহরণ। এই নাটকের কাহিনী এগিয়েছে একজন জীবন সায়ন্নে আসা অভিনেতার সাফল্যে ভরা  অতীত রঙ্গিন জীবন ও বর্তমান নিঃসঙ্গ জীবনের বেদনা বিধুর স্মৃতিচারণাকে কেন্দ্র করে। ভাব-সেতু নির্মাণ : সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ, নামকরণের মাধ্যমে পাঠক ও পাঠ্যের মধ্যে একটি ভাবসেতু নির্মিত হয়, যাকে অবলম্বন করে পাঠক গল্প বা নাটকের গহীনে প্রবেশের প্রেরণা পায়। নামকরণের পদ্ধতি : গল্প, কবিতা কিম্বা নাটক, সমস্ত সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রেই নামকরণ মূলত তিনভাবে হয়ে থাকে। এগুলো হল, বিষয়কেন্দ্রিক, চরিত্রকেন্দ্রিক অথবা ব্যঞ্জনাধর্মী। নানা রঙের দিন একাঙ্ক নাটকটি নামকরণের ক্ষেত্রে ব্যঞ্জনাধর্মী বিষয়টিই ব্যবহৃত হয়েছে। বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ : এই নাটকের প্রধান চরিত্র অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় দিলদারের পোশাক পরে শূন্য প্রেক্ষাগৃহে মধ্যরাতে কিছুটা নেশার ঘোরে অতীত স্মৃতিচারণায় মগ্ন হয়েছে...

    আমাদের মনে হয় এর নাম হওয়া উচিত ‘অভাব’ নাটক

    “আমাদের মনে হয় এর নাম হওয়া উচিত ‘অভাব’ নাটক।” — ২০১৫ আমাদের মনে হয় এর নাম হওয়া উচিত ‘অভাব’ নাটক। 🔘 অভাবের চিত্র ‘বিভাব’ নাটকে কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে লেখো। নাট্যকার শম্ভু মিত্রের লেখা ‘বিভাব’ নাটকে আমরা দেখতে পাই একজন ভদ্রলোক সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্র ঘেঁটে শম্ভু মিত্রের লেখা নাটকের নাম দিয়েছেন ‘বিভাব’। ‘বিভাব’ শব্দের অর্থ হল, মনের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া শোক, হাস্য, রাগ, রতি, আনন্দ ইত্যাদি নয়টি রসানুভূতির হেতু বা কারণ। কিন্তু নিজের নাট্য ভাবনা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই নামের বিরোধ খুঁজে পেয়েছিলেন নাট্যকার শম্ভু মিত্র। প্রবল অভাব থেকেই তাদের এই নাটকের জন্ম। তাই, নাট্যকারের মনে হয়েছে, তাদের এই নাটকের নাম ‘বিভব’ নয়, হওয়া উচিত ‘অভাব নাটক’। একটি নাটকের সুস্থ উপস্থাপনা এবং ভালো প্রযোজনার জন্য দরকার হয় ভালো মঞ্চ, দৃশ্য অনুযায়ী মঞ্চসজ্জা, দৃশ্যপট, আলোক প্রক্ষেপণের কৃৎকৌশল ইত্যাদি। কিন্তু অর্থনৈতিক দৈন্য নাটক অভিনয়ে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর এ কারণে, এই নাটক মঞ্চস্থ করার সময় কোন ভাল মঞ্চ ছিল না, ছিলনা আলো বা ঝালর জাতীয় মঞ্চ সজ্জার বিভিন্ন উপকরণ। থাকার মধ্যে ছিল শুধু নাটক...

    এবার নিশ্চয়ই লোকের খুব হাসি পাবে

    “এবার নিশ্চয়ই লোকের খুব হাসি পাবে।” এবার নিশ্চয়ই লোকের খুব হাসি পাবে। ক) কে, কখন এ কথা বলেছে? অথবা, কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে একথা বলা হয়েছে? খ) এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তা কি বোঝাতে চেয়েছেন? গ) সমগ্র নাট্য কাহিনীর নিরিখে মন্তব্যটির তাৎপর্য আলোচনা করো। ক) কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে একথা বলা হয়েছে? অথবা, কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে একথা বলা হয়েছে? নাট্যকার শম্ভু মিত্রের লেখা ‘বিভাব’ নাটকের শেষ পর্বে দেখা যায় ‘হাসির খোরাক’ খুঁজতে শম্ভু মিত্র ও অমর গাঙ্গুলী পথে নামছেন। কারণ, তাদের ধারণা হয়, চার দেয়াল-এর বাইরে — রাস্তায় কিংবা মাঠে-ঘাটে রয়েছে ‘হাসির খোরাক’। কিন্তু একটু এগোতেই তাঁরা দেখতে পান, অন্য বস্ত্রের দাবিতে এগিয়ে আসছে একটি মিছিল। পুলিশের মানা অগ্রাহ্য করায় পুলিশ সেই মিছিলে গুলি চালায় এবং দু’জন ছেলেমেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এই ঘটনা শম্ভু মিত্রকে প্রবলভাবে আঘাত করে। তিনি উপলব্ধি করেন, যেখানে অন্ন-বস্ত্রের দাবিতে মানুষ নিহত হয়, সেখানে হাসির খোরাক খুঁজে পাওয়া কঠিন কাজ। মূলত, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক শম্ভু মিত্র অমর গাঙ্গুলী ও সামনে বসে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে শ্লেষের ...

    রচনা : মৃণাল সেন

    প্রবন্ধ রচনা : মৃণাল সেন ভূমিকা : মৃণাল সেন ছিলেন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও লেখক। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে এক বন্ধনীতে উচ্চারিত হতো তার নামও। জন্ম ও শিক্ষাজীবন :  মৃণাল সেন ১৯২৩ সালের ১৪ মে বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্ম । এখানেই তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। এর পর তিনি কলকাতায় চলে আসেন। পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়াশোনা করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। প্রাথমিক কর্ম :  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সাংবাদিকতা, ওষুধ বিপণনকারী হিসাবে কাজ শুরু করেন। চল্লিশের দশকে মৃণাল সেন ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর চলচ্চিত্রে শব্দকুশলী হিসেবেও কাজ শুরু করেন। রাজনৈতিক দর্শন :  আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাসী মৃণাল সেন দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার সাংস্কৃতিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে ভারতের পার্লামেন্টের সদস্য হন। ছবি পরিচালনা : বাংলা, ওড়ইয়আ, হিন্দি এবং তেলেগু ভাষায় চলচ্চিত্র পরিচালনা করে তিনি বহুভাষিক চিত্র পরিচালক হিসেবে খ্যাতি...

    এবার শান্তি

    “এবার শান্তি।” ক) এ শান্তি কীভাবে পাওয়ার কথা বলা হয়েছে? খ) কেনই বা লেখক শান্তি প্রার্থনা করেছেন তা বুঝিয়ে লেখো। ক) এ শান্তি কীভাবে পাওয়ার কথা বলা হয়েছে? সমাজ সচেতন প্রাবন্ধিক সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের ‘হাত বাড়াও’ নিবন্ধে পঞ্চাশের মন্বন্তরের এক হৃদয় বিদারক ও মর্মস্পর্শী ছবি তুলে ধরেছেন। এই রচনায় ১২-১৩ বছর বয়সি এক কঙ্কালসার দেহ-বিশিষ্ট ‘অদ্ভুত জন্তু’র মতো দেখতে একজন নিরন্ন কিশোরের বর্ণনা রয়েছে। যার জ্বলন্ত চোখের দৃষ্টি ‘বুকের রক্ত হিম করে দেয়’। লেখকের বিশ্লেষণে, তার এই জলন্ত চোখ দুটি শাস্তি চায়। শাস্তি চায় সেইসব খুনি মানুষদের, যারা শহরে, গ্রামে গঞ্জে, নগর বন্দরে ‘জীবনের গলায় মৃত্যুর ফাঁস পরাচ্ছে’। মানুষকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে সে চেয়েছে, এই শাস্তি আসুক শান্তির বার্তায় ভর করে। কামনা করেছে, বাংলার বুক জুড়ে সবুজ মাঠের সোনালী ফসলে ও চাষীর গোলা ভরা ধানে ভর করে সেই শান্তি আসুক। শান্তি আসুক কারখানায় কারখানায় বন্ধন মুক্ত মানুষের আন্দোলিত বাহুতে বাহু মিলনের মধ্য দিয়ে। মিলিত হোক যুদ্ধ আর অনাহারকে দূরে ঠেলে কোটি কোটি মানুষের বলিষ্ঠ হাত, স্...