সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছাত্র জীবনে সৌজন্য ও শিষ্টাচার

ছাত্র জীবনের সৌজন্য ও শিষ্টাচার

মানব জীবনে শিষ্টাচার, ভদ্রতা ও সৌজন্যবোধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ভদ্রতা আত্মীয়তার চেয়ে কিছু কম এবং সামাজিকতার চেয়ে কিছু বেশি।

ভূমিকা?

ইংরেজীতে যাকে বলে Etiquette; good manners; formality; বাংলায় তাকেই বলে শিষ্টাচার। মানবজীবনের অত্যাবশ্যক গুণাবলির অন্যতম হল এই সৌজন্য ও শিষ্টাচার। দেহের সৌন্দর্ৎ বৃদ্ধি পায় যেমন অলঙ্কারে, তেমনি আত্মার সৌন্দর্য বাড়ে শিষ্টাচারে। অলঙ্কার বাইরের সামগ্রী আর শিষ্টাচার অন্তরের। এবং সৌজন্যবোধ হলো তার মার্জিত প্রাত্যহিক জীবনচর্চা।

সৌজন্য ও শিষ্টাচারের বৈশিষ্ট্য :

১) জীবনবিকাশের ক্ষেত্রে শিষ্টাচার, ভদ্রতা ও সৌজন্যবোধ অপরিহার্য। চলনে-বলনে, আচরণে, পোশাক-পরিচ্ছদে এবং ব্যক্তিত্ব, আভিজাত্য ও চারিত্রিক দীপ্তি প্রকাশেও এই গুণগুলো ক্রিয়াশীল থাকা জরুরি।

২) ঘরে বাইরে সর্বত্র শিষ্ট ও সৌজন্যমূলক আচরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে শিষ্টাচার হল একটি অপরিহার্য চারিত্রিক সম্পদ এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক ঐশ্বর্য

৩) শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধ নিজের অসুবিধা সত্ত্বেয় পরের সুবিধা করে দিতে উৎসুক থাকে। শুধুমাত্র  আত্মসুখ ও আত্মসমৃদ্ধি খোঁজে না

৪) এই গুণের অধিকারী মানুষকে বলা হয় ভদ্রলোক

৫) মানুষ আর পশুর মধ্যে পার্থক্য নিরূপন হয় এই গুণাবলীর নিরিখেই। দার্শনিক সক্রেটিস বলেছেন, ‘দেহের সৌন্দর্যের চাইতে চিন্তার সৌন্দর্য অধিকতর মোহময় ও এর প্রভাব যাদুর মতো।’

শিষ্টাচারের প্রয়োজনীয়তা :

সমাজ জীবনের ভারসাম্য, শৃঙ্খলা, উন্নতি ও অগ্রসরতা অব্যাহত রাখতে পারস্পরিক শিষ্টাচার, ভদ্রতা, সৌজন্যতা ও অন্যান্য মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। এককথায়, শিষ্টাচার হচ্ছে ভদ্র, মার্জিত ও রুচিসম্মত আচরণের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।
১) কথাবার্তায় ও আচার-আচরণে মার্জিত রুচি ও সুন্দর মনের পরিচয় দিতে,
২) পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সর্বাত্মক সুন্দর করে তুলতে,
৩) জাতিতে জাতিতে বিরোধ, দ্বন্দ্ব থেকে পরিত্রান পেতে,
৪) সমাজে ও রাষ্ট্রে সুশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে,
৫) একে অপরের সুবিধা-অসুবিধা, মতামত ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে চলতে,
৬) শোভন, সুন্দর ও প্রীতিময় আদব-কায়দার অনুশীলন করতে,
৭) ব্যাক্তি স্বাধীনতা বজায় রাখতে ও গনতান্ত্রিক পথ সুগম করে তুলতে,
৮) জাতিকে নতুন প্রাণ স্পন্দনে অনুপ্রাণিত করে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে, 
৯) মানব জীবনের সার্বিক কল্যাণ করতে,
১০) একটি আদর্শ সমাজ গঠন করতে, প্রয়োজন সৌজন্য ও শিষ্টাচারের অনুশীলন।

শিষ্টাচার ও ভদ্রতার :

অনেকে শিষ্টাচার ও ভদ্রতার মধ্যে একটি সীমারেখা টেনে দেন। তাদের মতে শিষ্টাচার আন্তরিক গুণ, আর ভদ্রতা বাহ্যিক আচরণ মাত্র। ভদ্রতা অনেক সময়েই শুধু মৌখিক ও কৃত্রিম হয়ে থাকে; কিন্তু শিষ্টাচার মার্জিত রুচিসম্পন্ন হৃদয়ের নিজস্ব গুণ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ দু’টিকে পরস্পরের থেকে আলাদা করে যায় না। মৌখিকই হোক বা আন্তরিকই, অপরের প্রতি ভদ্র ব্যবহার করাই শিষ্টাচার। অধিকন্তু মৌখিকভাবে ভদ্র ব্যবহার করতে করতেই তা একদিন আন্তরিক গুণে পরিণত হতে পারে।মানুষের সদগুণাবলীর মধ্যে শিষ্টাচার যে অন্যতম প্রধান গুণ এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। একারনেই নেপলিয়ন বলেছিলেন, ‘The greatest ornament of an illustrious life is modesty and humility’।

শিষ্টাচার ও সৌজন্য  :

আক্ষরিকভাবে মার্জিত ও ভদ্র পরিশীলিত আচরণই শিষ্ঠাচার নামে পরিচিত। ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে সুজনের ভাবকে আমরা ‘সৌজন্য’ বলি। তাই তার যে ব্যবহারিক অর্থ আমাদের মধ্যে প্রচলিত তার সাথে শিষ্টাচারের বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। সুতরাং শিষ্টাচার ও সৌজন্যকে সমার্থক রূপেই সাধারণত গণ্য করা যায়। 

শিষ্টাচার, ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক :

অপরের সুবিধা-অসুবিধা, মতামত ও অনুভূতির প্রতি সম্মান করে চলাই শিষ্টাচার ও সৌজন্যের লক্ষ্য। তা থেকে বুঝা যায় শিষ্টাচার ব্যক্তিগত গুণ হলেও সমাজের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক। বস্তুত তা একটি স্বাভাবিক গুণ। এবং এই শিষ্টাচার ও সৌজন্য ব্যক্তি জীবনকে সফল ও জনপ্রিয় করে তোলে।

বিদ্যা, পাণ্ডিত্য ও শিষ্টাচারের সম্পর্ক

প্রসঙ্গত স্মরণীয়, বিদ্যা ও পাণ্ডিত্যের সাথে শিষ্টাচারের বিশেষ সম্পর্ক নেই। খ্যাতনামা পণ্ডিতও অশিষ্ট হতে পারেন। তবে একথা ঠিক যে, প্রকৃত বিদ্যা যেমন বিনয় দান করে, তেমনি তা মানুষকে শিষ্ট এবং সুজন হতে শিক্ষা দেয়। 

শিষ্টাচারি হওয়ার উপায় :

শিষ্টাচার ও ভদ্রতা শিক্ষার বিষয়। কিন্তু উচ্চ শিক্ষিত হলেই যে এগুলো অর্জন করা যায় বিষয়টা এমন নয়। এর জন্য কোনো রকম অর্থ ব্যয় হয় না বটে; কিন্তু সাধনার প্রয়োজন। অন্যান্য গুণের মতো এ গুণটির শিক্ষাকালও শৈশব ও ছাত্রজীবন। ছাত্রজীবনে যে শিক্ষা দেওয়া হয় কর্মজীবনেও তা আমাদের প্রভাবিত করে। ছাত্রজীবনে শিষ্ট না হতে পারলে কর্মজীবনেও আমরা সফলতা লাভ করতে পারব না।

১) পরিবারের ভূমিকা :

শিষ্টাচারের বীজ মূলত বপিত হয় শিশুকালে। আর এক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা প্রধান। শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। পরিবারের বড়রা যে রকম ব্যবহার করে, শিশুরা তাই অনুকরণ করে। বাল্যকালে শিশুদের সংযম, বিনয় ও উন্নত রুচির চর্চা ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে শিষ্টাচার গড়ে তোলে।

২) শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণের ভূমিকা :

একাডেমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালেখা করে শিক্ষিত হওয়া যায়, মেধাবী হলে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভিনদেশেও নাম কুড়ানো যায়; কিন্তু পরিবার থেকে সুশিক্ষা ও মূল্যবোধ না পেলে একসময় সব শিক্ষাই ম্লান হয়ে যায়। কারণ সভ্যতা, ভদ্রতা, নৈতিকতা, কৃতজ্ঞতা বোধ, অপরের প্রতি শ্রদ্ধা-স্নেহ, পরোপকার, উদার মানসিকতা- এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খুব বেশি অর্জন করা যায় না। এগুলোর ভিত্তি প্রোথিত হয় পারিবারিক মূল্যবোধ লালন-পালন ও সুশিক্ষার মাধ্যমে।

শিষ্টাচারের গুরুত্ব :

শিষ্টাচারহীন মানুষ কেবল আকৃতির দিক থেকেই মানুষ, তাদের মনুষ্যত্বের কোনো বিকাশ ঘটে না।

মানুষ আদিমকালে, মানুষ শিষ্টাচারের কোনো আবশ্যকতাই অনুভব করেনি। কিন্তু যখন মানুষ সমাজবদ্ধ হল, তখন থেকেই তাদের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের আবির্ভাব ঘটে। আর সেগুলোকে অক্ষুণ্ন রাখার জন্যই প্রয়োজন হয় শিষ্টাচারের।

সমাজে বাস করতে হলে বিভিন্ন জনের সংস্পর্শে আসতেই হয় এবং তাদের সঙ্গে প্রীতি, সৌজন্যবোধ ও সখ্যতা বজায় রাখতে হয়। একমাত্র শিষ্টাচারের মাধ্যমেই তা সম্ভবপর।

সমাজের বসবাসকারী লোকের সঙ্গে কেউ যদি অশিষ্ট অভদ্র আচরণ করে, তবে সে স্বভাবতই তাদের বিরাগভাজন হয়ে পড়ে এবং ব্যক্তিগতভাবে আপনার জীবনের সাফল্যকে বিঘ্নিত করে।

 শিষ্টাচার মানুষকে সংযমী ও বিনয়ী করে তোলে। শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তি তার ভদ্র ও সংযত ব্যবহার দিয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে।

পৃথিবীতে যারা মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তারা শিষ্টাচার ও মার্জিত ব্যবহারের মাধ্যমেই মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। তবে এগুণ হঠাৎ করে কারো মধ্যে গড়ে ওঠে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ প্রস্তুতি, সাধনা ও শিক্ষা।

আপামর স্বার্থেও সামাজিক মানুষের পক্ষে শিষ্টাচার অপরিহার্য। মানুষের সুখ সমৃদ্ধি ও শান্তিকে তাই সহজলভ্য করে তুলতে পারে।

শিষ্টাচার ও সৌজন্য ব্যক্তি জীবনকে সফল ও জনপ্রিয় করে তোলে।

ছাত্রজীবন ও শিষ্টাচার

বিদ্যালয় শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক শিক্ষা অর্জনেরও আদর্শ সময় ছাত্রজীবন। কাজেই ছাত্রজীবন থেকেই আমাদের শিষ্টাচার এবং সৌজন্য শিক্ষায় প্রয়াসী হওয়া দরকার। শিষ্টাচার ও সৌজন্যের ছোঁয়াতেই একজন ছাত্র ভদ্র ও বিনয়ী হয়ে ওঠে। কাজেই ব্যক্তির সামাজিকীকরণ এবং সুখী-শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ জীবনের জন্যও ছাত্রজীবন থেকেই আমাদের সৌজন্য ও শিষ্টাচার শেখা একান্তভাবে জরুরি।

উপসংহার :

সমস্ত সদগুণাবলির মধ্যে সৌজন্য ও শিষ্টাচার যে অন্যতম প্রধান গুণ এ বিষয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। সন্দেহ নেই, এই দুইয়ে মিলেই ভবিষ্যৎ জীবনে চলার পথকে মসৃণ করে তোলে। এ কারণেই Oscar Wild তাঁর "The importance of Be ing Earnest-এ লিখেছেন, "Courtesy and Politeness are the basic principles which directs human life smoothly." সুতরাং ছাত্রজীবন থেকেই এ বিষয়ে যত্নবান হওয়া দরকার। স্কুল-কলেজে, অফিস-আদালতে, সভা-সমিতিতে বাসে ট্রেনে সমস্ত জায়গাতেই সৌজন্য ও শিষ্টাচারের চর্চা দরকার। শুধু সামাজিক নয়, রাষ্ট্রীয় জীবনেও শিষ্টাচারের চর্চা আবশ্যক। কারণ, শিষ্টাচার একটি দেশ ও জাতির উন্নত মননের প্রতীক। তাই ছাত্রজীবনেই শপথ নিতে হবে শিষ্টাচার বিশিষ্ট জীবন ও সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে।
---------xx--------

মন্তব্যসমূহ

বাংলা বই : দ্বাদশ শ্রেণি - সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রশ্নোত্তর

প্রবন্ধ : ভগিনী নিবেদিতা

ভগিনী নিবেদিতা ভূমিকা : ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে ভগিনী নিবেদিতার নাম। পৈত্রিক সূত্রে তিনি ছিলেন স্কচ। আধুনিক ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী ও ধর্মনেতা স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ভারতবর্ষে আসেন। ব্রহ্মচর্যে দীক্ষা নেন। ভারতে সমাজ সেবা ও নারী শিক্ষার প্রসারেও নিবেদিতার ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জন্ম ও বংশ পরিচয় : ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের ২৮ অক্টোবর উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডানগ্যানন শহরে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল ছিলেন ধর্মযাজক। মায়ের নাম মেরি ইসাবেলা। মাত্র দশ বছর বয়সে মার্গারেটের বাবা মারা যান। তারপর তাঁর দাদামশাই তথা আয়ারল্যান্ডের বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী হ্যামিলটন তাঁকে লালনপালন করেন। শিক্ষাজীবন : মার্গারেট লন্ডনের চার্চ বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর হ্যালিফ্যাক্স কলেজে তিনি ও তাঁর বোন মেরি পড়াশোনা করেছিলেন। কর্মজীবন : ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে, সতেরো বছর বয়সে শিক্ষাজীবন শেষ করে মার্গারেট শিক্ষিকার পেশা গ্রহণ করেন। দু’বছরের জন্যে কেসউইকের একটি প্রাইভেট স্কুলে পড়ান। এরপরে একে ...

ভারতের জাতীয় সংহতি ও বিছিন্নতাবাদ

ভারতের জাতীয় সংহতি ও বিছিন্নতাবাদ নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান্ — অতুল প্রসাদ সেন  ভূমিকা : জাতীয় সংহতি হল একটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে একটি সাধারণ পরিচয় সম্পর্কে সচেতনতা। এর অর্থ হল, আমাদের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং ভাষাগত পার্থক্য থাকলেও, আমরা এই সত্যকে স্বীকার করি যে, আমরা সবাই এক। এটি কেবল একটি জাতীয় অনুভূতি নয়, এটা সেই চেতনা যা সমস্ত উপভাষা ও বিশ্বাসের মানুষকে একই প্রচেষ্টায় একত্রিত করে। জাতীয় একীকরণের সংজ্ঞা: ডাঃ এস. রাধাকৃষ্ণ বলেছেন, national integration cannot be made by bricks and mortar, mould and hammer, but it quietly grows in people’s minds through education.1️⃣ এইচ এ গণি সংজ্ঞায়িত করেছেন, “National integration is a socio-psychological and educational process through which a feeling of unity and harmony develops in the hearts of the people and a sense of common citizenship or feeling of loyalty to the nation is fostered among them”2️⃣ এককথায়, জাতীয় সংহতির ধারণার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং মনস্তাত্ত্...

সেই দুটি জ্বলন্ত চোখ শাস্তি চায়

“সেই দুটি জ্বলন্ত চোখ শাস্তি চায়” ক) এখানে ‘কোন্ চোখে’র কথা বলা হয়েছে? অথবা, কার কথা বলা হয়েছে? খ) সে কীরূপ শাস্তি চায়? অথবা, সে কীভাবে শাস্তি চায়, বুঝিয়ে লেখো। গ) ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক কী উপলব্ধিতে উপনীত হয়েছিলেন? ঘ) লেখক তাকে কীভাবে এবং কেন সাহায্য করতে বলেছেন? ক) এখানে কোন্ ‘চোখে’র কথা বলা হয়েছে? অথবা, কার কথা বলা হয়েছে? সমাজ সচেতন প্রাবন্ধিক সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘হাত বাড়াও’ নিবন্ধে পঞ্চাশের মন্বন্তরের এক মর্মস্পর্শী ছবি তুলে ধরেছেন। এই রচনায় ১২-১৩ বছর বয়সি এক কঙ্কালসার দেহ-বিশিষ্ট ‘অদ্ভুত জন্তু’র মতো দেখতে এক নিরন্ন কিশোরের বর্ণনা রয়েছে। যার জ্বলন্ত চোখের দৃষ্টি ‘বুকের রক্ত হিম করে দেয়’। আলোচ্য উদ্ধৃতিতে এই কিশোর এবং তার জ্বলন্ত চোখের কথা বলা হয়েছে। খ) সে কীরূপ শাস্তি চায়? অথবা, সে কীভাবে শাস্তি চায় বুঝিয়ে লেখো। এই জ্বলন্ত চোখ দুটি শাস্তি চায়। শাস্তি চায় সেইসব খুনি মানুষদের, যারা শহরে, গ্রামে গঞ্জে, নগর বন্দরে ‘জীবনের গলায় মৃত্যুর ফাঁস পরাচ্ছে’। মানুষকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দিচ্ছে না। তার সরু লিকলিকে আঙুল দিয়ে সে যেন সেইসব ...

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

প্রবন্ধ রচনা : মাইকেল মধুসূদন দত্ত ভূমিকা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত একাধারে একজন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল। মায়ের নাম জাহ্নবী দেবী। শিক্ষাজীবন : মধুসূদন দত্ত শিক্ষা গ্রহণ পর্ব শুরু হয় মায়ের তত্ত্বাবধানে সাগরদাঁড়ির পাঠশালায়। পরে সাত বছর বয়সে কলকাতা আসেন এবং খিদিরপুর স্কুলে দুবছর পড়ার পর ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।  এখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, রাজেন্দ্রলাল মিত্র, রাজনারায়ণ বসু, গৌরদাস বসাক প্রমুখ, যাঁরা পরবর্তী জীবনে স্বস্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কলেজের পরীক্ষায় তিনি বরাবর বৃত্তি পেতেন। এ সময় নারীশিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। এ সময় থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন বিলেত যাওয়ার। তাঁর ধারণা ছিল বিলেতে যেতে পারলেই বড় কবি হওয়া যাবে।  এই উদ্দেশ্যেই ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিস্ট...

‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য

‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা করো। —২০১৫ ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য ভূমিকা : নাট্যকার অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘ নানা রঙের দিন ’ একটি ‘ একাঙ্ক নাটকে ’র অনিন্দ্য সুন্দর উদাহরণ। এই নাটকের কাহিনী এগিয়েছে একজন জীবন সায়ন্নে আসা অভিনেতার সাফল্যে ভরা  অতীত রঙ্গিন জীবন ও বর্তমান নিঃসঙ্গ জীবনের বেদনা বিধুর স্মৃতিচারণাকে কেন্দ্র করে। ভাব-সেতু নির্মাণ : সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ, নামকরণের মাধ্যমে পাঠক ও পাঠ্যের মধ্যে একটি ভাবসেতু নির্মিত হয়, যাকে অবলম্বন করে পাঠক গল্প বা নাটকের গহীনে প্রবেশের প্রেরণা পায়। নামকরণের পদ্ধতি : গল্প, কবিতা কিম্বা নাটক, সমস্ত সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রেই নামকরণ মূলত তিনভাবে হয়ে থাকে। এগুলো হল, বিষয়কেন্দ্রিক, চরিত্রকেন্দ্রিক অথবা ব্যঞ্জনাধর্মী। নানা রঙের দিন একাঙ্ক নাটকটি নামকরণের ক্ষেত্রে ব্যঞ্জনাধর্মী বিষয়টিই ব্যবহৃত হয়েছে। বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ : এই নাটকের প্রধান চরিত্র অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় দিলদারের পোশাক পরে শূন্য প্রেক্ষাগৃহে মধ্যরাতে কিছুটা নেশার ঘোরে অতীত স্মৃতিচারণায় মগ্ন হয়েছে...

আমাদের মনে হয় এর নাম হওয়া উচিত ‘অভাব’ নাটক

“আমাদের মনে হয় এর নাম হওয়া উচিত ‘অভাব’ নাটক।” — ২০১৫ আমাদের মনে হয় এর নাম হওয়া উচিত ‘অভাব’ নাটক। 🔘 অভাবের চিত্র ‘বিভাব’ নাটকে কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে লেখো। নাট্যকার শম্ভু মিত্রের লেখা ‘বিভাব’ নাটকে আমরা দেখতে পাই একজন ভদ্রলোক সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্র ঘেঁটে শম্ভু মিত্রের লেখা নাটকের নাম দিয়েছেন ‘বিভাব’। ‘বিভাব’ শব্দের অর্থ হল, মনের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া শোক, হাস্য, রাগ, রতি, আনন্দ ইত্যাদি নয়টি রসানুভূতির হেতু বা কারণ। কিন্তু নিজের নাট্য ভাবনা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই নামের বিরোধ খুঁজে পেয়েছিলেন নাট্যকার শম্ভু মিত্র। প্রবল অভাব থেকেই তাদের এই নাটকের জন্ম। তাই, নাট্যকারের মনে হয়েছে, তাদের এই নাটকের নাম ‘বিভব’ নয়, হওয়া উচিত ‘অভাব নাটক’। একটি নাটকের সুস্থ উপস্থাপনা এবং ভালো প্রযোজনার জন্য দরকার হয় ভালো মঞ্চ, দৃশ্য অনুযায়ী মঞ্চসজ্জা, দৃশ্যপট, আলোক প্রক্ষেপণের কৃৎকৌশল ইত্যাদি। কিন্তু অর্থনৈতিক দৈন্য নাটক অভিনয়ে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর এ কারণে, এই নাটক মঞ্চস্থ করার সময় কোন ভাল মঞ্চ ছিল না, ছিলনা আলো বা ঝালর জাতীয় মঞ্চ সজ্জার বিভিন্ন উপকরণ। থাকার মধ্যে ছিল শুধু নাটক...

এবার নিশ্চয়ই লোকের খুব হাসি পাবে

“এবার নিশ্চয়ই লোকের খুব হাসি পাবে।” এবার নিশ্চয়ই লোকের খুব হাসি পাবে। ক) কে, কখন এ কথা বলেছে? অথবা, কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে একথা বলা হয়েছে? খ) এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তা কি বোঝাতে চেয়েছেন? গ) সমগ্র নাট্য কাহিনীর নিরিখে মন্তব্যটির তাৎপর্য আলোচনা করো। ক) কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে একথা বলা হয়েছে? অথবা, কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে একথা বলা হয়েছে? নাট্যকার শম্ভু মিত্রের লেখা ‘বিভাব’ নাটকের শেষ পর্বে দেখা যায় ‘হাসির খোরাক’ খুঁজতে শম্ভু মিত্র ও অমর গাঙ্গুলী পথে নামছেন। কারণ, তাদের ধারণা হয়, চার দেয়াল-এর বাইরে — রাস্তায় কিংবা মাঠে-ঘাটে রয়েছে ‘হাসির খোরাক’। কিন্তু একটু এগোতেই তাঁরা দেখতে পান, অন্য বস্ত্রের দাবিতে এগিয়ে আসছে একটি মিছিল। পুলিশের মানা অগ্রাহ্য করায় পুলিশ সেই মিছিলে গুলি চালায় এবং দু’জন ছেলেমেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এই ঘটনা শম্ভু মিত্রকে প্রবলভাবে আঘাত করে। তিনি উপলব্ধি করেন, যেখানে অন্ন-বস্ত্রের দাবিতে মানুষ নিহত হয়, সেখানে হাসির খোরাক খুঁজে পাওয়া কঠিন কাজ। মূলত, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক শম্ভু মিত্র অমর গাঙ্গুলী ও সামনে বসে থাকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে শ্লেষের ...

রচনা : মৃণাল সেন

প্রবন্ধ রচনা : মৃণাল সেন ভূমিকা : মৃণাল সেন ছিলেন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও লেখক। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে এক বন্ধনীতে উচ্চারিত হতো তার নামও। জন্ম ও শিক্ষাজীবন :  মৃণাল সেন ১৯২৩ সালের ১৪ মে বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্ম । এখানেই তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। এর পর তিনি কলকাতায় চলে আসেন। পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়াশোনা করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। প্রাথমিক কর্ম :  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সাংবাদিকতা, ওষুধ বিপণনকারী হিসাবে কাজ শুরু করেন। চল্লিশের দশকে মৃণাল সেন ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর চলচ্চিত্রে শব্দকুশলী হিসেবেও কাজ শুরু করেন। রাজনৈতিক দর্শন :  আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাসী মৃণাল সেন দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার সাংস্কৃতিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে ভারতের পার্লামেন্টের সদস্য হন। ছবি পরিচালনা : বাংলা, ওড়ইয়আ, হিন্দি এবং তেলেগু ভাষায় চলচ্চিত্র পরিচালনা করে তিনি বহুভাষিক চিত্র পরিচালক হিসেবে খ্যাতি...

এবার শান্তি

“এবার শান্তি।” ক) এ শান্তি কীভাবে পাওয়ার কথা বলা হয়েছে? খ) কেনই বা লেখক শান্তি প্রার্থনা করেছেন তা বুঝিয়ে লেখো। ক) এ শান্তি কীভাবে পাওয়ার কথা বলা হয়েছে? সমাজ সচেতন প্রাবন্ধিক সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের ‘হাত বাড়াও’ নিবন্ধে পঞ্চাশের মন্বন্তরের এক হৃদয় বিদারক ও মর্মস্পর্শী ছবি তুলে ধরেছেন। এই রচনায় ১২-১৩ বছর বয়সি এক কঙ্কালসার দেহ-বিশিষ্ট ‘অদ্ভুত জন্তু’র মতো দেখতে একজন নিরন্ন কিশোরের বর্ণনা রয়েছে। যার জ্বলন্ত চোখের দৃষ্টি ‘বুকের রক্ত হিম করে দেয়’। লেখকের বিশ্লেষণে, তার এই জলন্ত চোখ দুটি শাস্তি চায়। শাস্তি চায় সেইসব খুনি মানুষদের, যারা শহরে, গ্রামে গঞ্জে, নগর বন্দরে ‘জীবনের গলায় মৃত্যুর ফাঁস পরাচ্ছে’। মানুষকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে সে চেয়েছে, এই শাস্তি আসুক শান্তির বার্তায় ভর করে। কামনা করেছে, বাংলার বুক জুড়ে সবুজ মাঠের সোনালী ফসলে ও চাষীর গোলা ভরা ধানে ভর করে সেই শান্তি আসুক। শান্তি আসুক কারখানায় কারখানায় বন্ধন মুক্ত মানুষের আন্দোলিত বাহুতে বাহু মিলনের মধ্য দিয়ে। মিলিত হোক যুদ্ধ আর অনাহারকে দূরে ঠেলে কোটি কোটি মানুষের বলিষ্ঠ হাত, স্...