সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমি দেখি

“আমি দেখি”

    ক) আমি কে?

    খ) তিনি কি দেখতে চেয়েছেন?

    গ) তিনি তা কেন দেখতে চেয়েছেন?

    ঘ) তার এই দেখার মধ্যে সৌখিনতা না কি প্রয়োজনীয়তার তাগিদ রয়েছে তা যুক্তিসহ আলোচনা করো।

    ঙ) পঙ্ক্তিটি সমগ্র কবিতার পরিপ্রেক্ষিতে কীভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে আলোচনা করো।

    অথবা,

    কবির গাছ লাগানোর এই নির্দেশ ও অনুরোধের কারণ ও তাৎপর্য আলোচনা করো।

    ক) আমি কে?

    কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘আমি দেখি’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। এখানে ‘আমি’ বলতে প্রকৃতিপ্রেমিক কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় নিজেকেই বুঝিয়েছেন।

    খ) তিনি কী দেখতে চেয়েছেন?

    রোগমুক্ত শরীর নিয়ে বেঁচে থাকতে হলে মানুষ ও বৃক্ষের সহাবস্থান অত্যন্ত জরুরী। আর এ কারণেই কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় সবুজ শূন্য শহরে তাঁর সহনাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে শহরজুড়ে সবুজের বাগান গড়ে তুলতে। শহর জুড়ে লাগানো এই সবুজ বাগানই তিনি আমরণ দেখতে চেয়েছেন।

    গ) তিনি তা কেন দেখতে চেয়েছেন?

    কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বিংশ শতকের অর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার অবক্ষয়ের পটভূমিতে এই কবিতাটি রচনা করেছেন। এই সময়কালে তিনি লক্ষ্য করেছেন, নগর সভ্যতা গড়ে তোলার নামে একশ্রেণীর অসাধু মানুষ শহরকে ক্রমাগত বৃক্ষহীন করে তুলছে। ফলে শহর জুড়ে সবুজের এক ভয়াবহ অনটন শুরু হয়।

    কিন্তু রোগমুক্ত শরীর নিয়ে বেঁচে থাকতে হলে, এই মানুষ ও সবুজ অর্থাৎ  বৃক্ষের সহাবস্থান অত্যন্ত জরুরী। কেননা, মানুষ ও সবুজ উদ্ভিদ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনের অস্তিত্ব কল্পনাতীত। আর এ কারণেই কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় সবুজ উদ্ভিদকে পরম হিতাকাঙ্খী বন্ধু রূপে আজীবন দেখতে চেয়েছেন।

    ঘ) তাঁর এই দেখার মধ্যে সৌখিনতা, না কী প্রয়োজনীয়তার তাগিদ রয়েছে তা যুক্তিসহ আলোচনা করো।

    সবুজ উদ্ভিদ নিঃসন্দেহে পরিবেশের শোভাবর্ধন করে। সেই সঙ্গে মানুষের চোখে মুখে ছড়িয়ে দেয় অনাবিল আনন্দের আবহ। তাই, সৌখিন নাগরিক সমাজ সৌন্দর্য বৃদ্ধির তাগিদে বাড়ির ব্যালকনিতে বাহারি সব ফুলের গাছ লাগায়।

    অকৃত্রিম অরণ্য-প্রেমী কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘকাল শহরে বন্দী জীবন যাপনে বাধ্য হয়েছেন। তাই, নাগরিক শ্রান্তিতে কবির শরীর ও মন অবসন্ন ও ক্লান্ত। কবি জানেন, শরীর ও মনের এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সবুজের সান্নিধ্য অত্যন্ত জরুরী। অথচ ‘শহরের অসুখ’ অনবরত গ্রাস করে চলেছে সবুজকে। কবি তাই উদ্বিগ্ন। আর এই উদ্বেগের কারণেই তিনি শহর জুড়ে ‘সবুজ বাগান’ গড়ে তোলার তাগিদ অনুভব করেছেন।

    সুতরাং শুধু সৌখিনতা নয়, কবির এই ‘সবুজ বাগান’ দেখার পিছনে রয়েছে সুস্থ জীবনধারণের জন্য ঐকান্তিক এক তাগিদ।

    ঙ) সমগ্র কবিতার পরিপ্রেক্ষিতে পঙক্তিটির তাৎপর্য :

    এই প্রশ্নের উত্তরে ‘গ’ ও ‘ঘ’ দাগের উত্তর এক সঙ্গে লিখতে হবে।

    --------------xx------------

    মন্তব্যসমূহ