সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তাই বলি, গাছ তুলে আনো

“তাই বলি, গাছ তুলে আনো”

    ক) বক্তা কে?

    খ) তিনি কেন গাছ তুলে আনতে বলছেন?

    গ) উদ্ধৃতিতে তাই শব্দটি কেন ব্যবহার করেছেন?

    ঘ) উদ্ধৃতিতে কবি যে আন্তরিক আবেদন প্রকাশ পেয়েছে তা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

    ক) কে, কোথায় একথা বলেছেন?

    প্রকৃতিপ্রেমিক কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘অঙ্গুরি তোর হিরণ্য জল’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আমি দেখি’ কবিতায় উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।

    খ) গাছ তুলে আনতে বলার কারণ :

    আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হয়, কবির এই উক্তিটি পরিবেশ বিরোধী। কিন্তু ‘আমি দেখি’ কবিতাটি এক ঝলক পড়লেই বোঝা যায় এই কবিতার মর্মবস্তু হল বৃক্ষরোপণের আহ্বান সম্বলিত একটি কাব্যিক সন্দর্ভ।

    আসলে কবি জানেন মানুষ-সহ সমস্ত জীব প্রকৃতির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। উভয়ের সম্পর্ক অনেকটা মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের মতো। কিন্তু কিছু মানুষ তাদের ক্ষমতার জোরে এই সম্পর্ককে উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত লাভ ও লোভের বশবর্তী হয়ে বৃক্ষ নিধনে মেতে ওঠে। ফলে নাগরিক জীবনে নেমে আসে ক্লেদ ক্লান্তি ও অবসাদ। যন্ত্র সভ্যতার দাপটে প্রকৃতি বৃক্ষ শূণ্য হয়ে নির্মলতা ও কোমলতা হারিয়ে মানুষের পক্ষে অসহনীয় হয়ে পড়ে।

    কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় এই অবস্থা থেকে প্রকৃতিকে মুক্ত করে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তুলতে শহর জুড়ে বৃক্ষ রোপন করার আহ্বান জানিয়েছেন। সবুজ শূণ্য শহরে বৃক্ষরোপণের উদ্দেশ্যেই কবি বন থেকে গাছ তুলে আনতে বলেছেন।

    গ) উদ্ধৃতিতে ‘তাই’ শব্দটি কেন ব্যবহার করেছেন?

    ‘তাই’ শব্দটি আসলে সিদ্ধান্ত সূচক অব্যয় পদ। সাধারণত কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত টানার জন্য এই পদটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আলোচ্য কবিতায় কবি গাছ মানুষের জন্য কতটা এবং কেন প্রয়োজন তা যুক্তিসহ উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। এবং বলেছেন,
    গাছের সবুজটুকু শরীরে দরকার
    আরোগ্যের জন্যে ওই সবুজের ভীষণ দরকার

     এভাবে রোগমুক্ত জীবন ও শহরের সৌন্দর্যায়নের জন্য যে উদ্ভিদের প্রয়োজন তা বোঝানো এবং তার ভিত্তিতে বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্তকে যুক্তিযক্ত বলে প্রমাণের তাগীদকে কবি ‘তাই’ অব্যয় পদটি ব্যবহার করেছেন।

    ঘ) উদ্ধৃতিতে কবি যে আন্তরিক আবেদন প্রকাশ পেয়েছে তা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

    কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় জানেন মানুষ-সহ সমস্ত জীব প্রকৃতির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। উভয়ের সম্পর্ক অনেকটা মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের মতো। তাই উন্নয়নের নামে অরণ্য সম্পদ ধ্বংস হলে কবি প্রবলভাবে ব্যথিত হয়ে ওঠেন।

    কারণ তিনি দেখেছেন, এই নগরায়নের ফলে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে, হারিয়ে যাচ্ছে ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়’। অথচ মানুষের আরোগ্য লাভের জন্য এই গাছের সান্নিধ্য অত্যন্ত জরুরী। কবিতার শুরুতেই তাই কবিকে আন্তরিক আবেদন রাখতে দেখি :
    গাছগুলো তুলে আনো, বাগানে বসাও
    আমার দরকার শুধু গাছ দেখা
    শুধু তাই নয়, এই আবেদনের সাথে সাথে তিনি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন, কেন প্রয়োজন বন থেকে গাছ তুলে বাগানে বসানো।
    গাছের সবুজটুকু শরীরে দরকার
    আরোগ্যের জন্যে এই সবুজ ভীষণ দরকার
    শহর জুড়ে গাছ লাগানোর এই আবেদনকে যুক্তিগ্রাহ্য করার জন্য তিনি উল্লেখ করেন
    শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায়
    সবুজের অনটন ঘটে
    এভাবে কার্যকারণ সম্পর্কের মোড়কে তিনি সমস্ত কবিতা জুড়ে নাগরিক সমাজের কাছে আন্তরিক আবেদন রেখেছেন এবং বলেছেন, আমাদের চোখ চায় সবুজ, দেহ চায় সবুজ বাগান। কবির কথায়,
    তাই বলি, গাছ তুলে আনো
    বাগানে বসাও আমি দেখি।

    --------------xx------------

    মন্তব্যসমূহ

    বাংলা বই : দ্বাদশ শ্রেণি - সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রশ্নোত্তর

    সহমরণ — সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

    সহমরণ — সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সহমরণ — সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘জিজ্ঞাসি’ছ পড়া কেন গা’? শুনিবে তা’? — শোন তবে মা — দুখের কথা ব’ল্ ব কা’রে বা! ************************* জন্ম আমার হিদুঁর ঘরে, বাপের ঘরে, খুব আদরে, ছিলাম বছর দশ; কুলীন পিতা, কুলের গোলে, ফেলে দিলেন বুড়ার গলে; হ’লাম পরের বশ। আচারে তার আস্ ত হাসি, — ব’লব কি আর পরকাশি, — মিটল সকল সাধ; — হিঁদুর মেয়ে অনেক ক’রে শ্রদ্ধা রাখে স্বামীর ’পরে তা’তেও বিধির বাদ। বুড়াকালের অত্যাচারে,— শয্যাশায়ী ক’রলে তা’রে জেগেই পোহাই রাতি; দিন কাটেত’ কাটে না রাত, মাসের পরে গেল হঠাৎ, — নিবল জীবন বাতি। ********************** কতক দুঃখে, কতক ভয়ে শরীর এল অবশ হ’য়ে ভাঙল সুখের হাট খ’য়ের রাশি ছড়িয়ে পথে, চল্ ল নিয়ে শবের সাথে,— যেথায় শ্মশান ঘাট। গুঁড়িয়ে শাঁখা, সবাই মিলে, চিতায় মোরে বসিয়ে দিলে, বাজ্ ল শতেক শাঁক; লোকের ভিড়ে ভরেছে ঘাট, ধুঁইয়ে উঠে চিতার কাঠ, উঠ্ল গর্জ্জে ঢাক। ******************** রোমে, রোমে, শিরায়, শিরায়, জ্বালা ধরে, —প্রাণ বাহিরায়,— মরি বুঝি ধোঁয়ায় এবার! আচম্বিতে—চিৎকার রোলে— চিতা ভেঙে, পড়িলাম জলে, মাঝি এক নিল নায়ে তার। যত লোক করে ‘মার ...

    সেই দুটি জ্বলন্ত চোখ শাস্তি চায়

    “সেই দুটি জ্বলন্ত চোখ শাস্তি চায়” ক) এখানে ‘কোন্ চোখে’র কথা বলা হয়েছে? অথবা, কার কথা বলা হয়েছে? খ) সে কীরূপ শাস্তি চায়? অথবা, সে কীভাবে শাস্তি চায়, বুঝিয়ে লেখো। গ) ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক কী উপলব্ধিতে উপনীত হয়েছিলেন? ঘ) লেখক তাকে কীভাবে এবং কেন সাহায্য করতে বলেছেন? ক) এখানে কোন্ ‘চোখে’র কথা বলা হয়েছে? অথবা, কার কথা বলা হয়েছে? সমাজ সচেতন প্রাবন্ধিক সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘আমার বাংলা’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘হাত বাড়াও’ নিবন্ধে পঞ্চাশের মন্বন্তরের এক মর্মস্পর্শী ছবি তুলে ধরেছেন। এই রচনায় ১২-১৩ বছর বয়সি এক কঙ্কালসার দেহ-বিশিষ্ট ‘অদ্ভুত জন্তু’র মতো দেখতে এক নিরন্ন কিশোরের বর্ণনা রয়েছে। যার জ্বলন্ত চোখের দৃষ্টি ‘বুকের রক্ত হিম করে দেয়’। আলোচ্য উদ্ধৃতিতে এই কিশোর এবং তার জ্বলন্ত চোখের কথা বলা হয়েছে। খ) সে কীরূপ শাস্তি চায়? অথবা, সে কীভাবে শাস্তি চায় বুঝিয়ে লেখো। এই জ্বলন্ত চোখ দুটি শাস্তি চায়। শাস্তি চায় সেইসব খুনি মানুষদের, যারা শহরে, গ্রামে গঞ্জে, নগর বন্দরে ‘জীবনের গলায় মৃত্যুর ফাঁস পরাচ্ছে’। মানুষকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দিচ্ছে না। তার সরু লিকলিকে আঙুল দিয়ে সে যেন সেইসব ...

    ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য

    ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা করো। —২০১৫ ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য ভূমিকা : নাট্যকার অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘ নানা রঙের দিন ’ একটি ‘ একাঙ্ক নাটকে ’র অনিন্দ্য সুন্দর উদাহরণ। এই নাটকের কাহিনী এগিয়েছে একজন জীবন সায়ন্নে আসা অভিনেতার সাফল্যে ভরা  অতীত রঙ্গিন জীবন ও বর্তমান নিঃসঙ্গ জীবনের বেদনা বিধুর স্মৃতিচারণাকে কেন্দ্র করে। ভাব-সেতু নির্মাণ : সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ, নামকরণের মাধ্যমে পাঠক ও পাঠ্যের মধ্যে একটি ভাবসেতু নির্মিত হয়, যাকে অবলম্বন করে পাঠক গল্প বা নাটকের গহীনে প্রবেশের প্রেরণা পায়। নামকরণের পদ্ধতি : গল্প, কবিতা কিম্বা নাটক, সমস্ত সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রেই নামকরণ মূলত তিনভাবে হয়ে থাকে। এগুলো হল, বিষয়কেন্দ্রিক, চরিত্রকেন্দ্রিক অথবা ব্যঞ্জনাধর্মী। নানা রঙের দিন একাঙ্ক নাটকটি নামকরণের ক্ষেত্রে ব্যঞ্জনাধর্মী বিষয়টিই ব্যবহৃত হয়েছে। বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ : এই নাটকের প্রধান চরিত্র অভিনেতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় দিলদারের পোশাক পরে শূন্য প্রেক্ষাগৃহে মধ্যরাতে কিছুটা নেশার ঘোরে অতীত স্মৃতিচারণায় মগ্ন হয়েছে...

    প্রবন্ধ : ভগিনী নিবেদিতা

    ভগিনী নিবেদিতা ভূমিকা : ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে ভগিনী নিবেদিতার নাম। পৈত্রিক সূত্রে তিনি ছিলেন স্কচ। আধুনিক ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী ও ধর্মনেতা স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ভারতবর্ষে আসেন। ব্রহ্মচর্যে দীক্ষা নেন। ভারতে সমাজ সেবা ও নারী শিক্ষার প্রসারেও নিবেদিতার ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জন্ম ও বংশ পরিচয় : ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের ২৮ অক্টোবর উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডানগ্যানন শহরে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল ছিলেন ধর্মযাজক। মায়ের নাম মেরি ইসাবেলা। মাত্র দশ বছর বয়সে মার্গারেটের বাবা মারা যান। তারপর তাঁর দাদামশাই তথা আয়ারল্যান্ডের বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী হ্যামিলটন তাঁকে লালনপালন করেন। শিক্ষাজীবন : মার্গারেট লন্ডনের চার্চ বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর হ্যালিফ্যাক্স কলেজে তিনি ও তাঁর বোন মেরি পড়াশোনা করেছিলেন। কর্মজীবন : ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে, সতেরো বছর বয়সে শিক্ষাজীবন শেষ করে মার্গারেট শিক্ষিকার পেশা গ্রহণ করেন। দু’বছরের জন্যে কেসউইকের একটি প্রাইভেট স্কুলে পড়ান। এরপরে একে ...

    ছাত্র জীবনে সৌজন্য ও শিষ্টাচার

    ছাত্র জীবনের সৌজন্য ও শিষ্টাচার মানব জীবনে শিষ্টাচার, ভদ্রতা ও সৌজন্যবোধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ভদ্রতা আত্মীয়তার চেয়ে কিছু কম এবং সামাজিকতার চেয়ে কিছু বেশি। - ইন্দিরাদেবী চৌধুরাণী ভূমিকা? ইংরেজীতে যাকে বলে Etiquette; good manners; formality; বাংলায় তাকেই বলে শিষ্টাচার। মানবজীবনের অত্যাবশ্যক গুণাবলির অন্যতম হল এই সৌজন্য ও শিষ্টাচার। দেহের সৌন্দর্ৎ বৃদ্ধি পায় যেমন অলঙ্কারে, তেমনি আত্মার সৌন্দর্য বাড়ে শিষ্টাচারে। অলঙ্কার বাইরের সামগ্রী আর শিষ্টাচার অন্তরের। এবং সৌজন্যবোধ হলো তার মার্জিত প্রাত্যহিক জীবনচর্চা। সৌজন্য ও শিষ্টাচারের বৈশিষ্ট্য : ১) জীবনবিকাশে র ক্ষেত্রে শিষ্টাচার, ভদ্রতা ও সৌজন্যবোধ অপরিহার্য । চলনে-বলনে, আচরণে, পোশাক-পরিচ্ছদে এবং ব্যক্তিত্ব, আভিজাত্য ও চারিত্রিক দীপ্তি প্রকাশেও এই গুণগুলো ক্রিয়াশীল থাকা জরুরি। ২) ঘরে বাইরে সর্বত্র শিষ্ট ও সৌজন্যমূলক আচরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে শিষ্টাচার হল একটি অপরিহার্য চারিত্রিক সম্পদ এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক ঐশ্বর্য । ৩) শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধ নিজের অসুবিধা সত্ত্বেয় পরের সুবিধা করে দিতে উৎসুক থাকে। শুধুমাত্র  আ...

    বহুদিন জঙ্গলে কাটেনি দিন / বহুদিন জঙ্গলে যায়নি

    “বহুদিন জঙ্গলে কাটেনি দিন / বহুদিন জঙ্গলে যায়নি” বহুদিন জঙ্গলে কাটেনি দিন / বহুদিন জঙ্গলে যায়নি ক) কেন কবি একথা বলেছেন? অথবা, বহুদিন জঙ্গলে যাননি বলে কবি কেন আক্ষেপ করেছেন? খ) কবি কেন জঙ্গলে যেতে চান বুঝিয়ে বলো। গ) এই অভাব পূরণের জন্য কবি কী চেয়েছেন? ঘ) বহুদিন জঙ্গলে না যাওয়ার সঙ্গে বহুদিন শহরে থাকার সম্পর্কটি নিরূপণ করো। ক) একথা বলার কারণ (আক্ষেপের কারণ) : প্রকৃতি প্রেমিক কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘ আমি দেখি ’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি নেওয়া হয়েছে। এই কবিতায় আমরা তাকে দেখতে পাই গাছ-প্রেমিক এক নাগরিক কবি হিসাবে। অর্থাৎ নাগরিক কবি হলেও তিনি ছিলেন অরণ্য প্রেমি। কারণ, তিনি জানতেন অরণ্যের সবুজের মধ্যেই রয়েছে শহরে জীবনের যান্ত্রিক ও কৃত্রিম পরিবেশে হাঁপিয়ে ওঠা নাগরিকের জন্য সঞ্জীবন সুধা। আর এ কারণেই তিনি বারবার যেতে চান অরণ্যভূমি সবুজ আঁচলের মায়াবী ছায়ায়। কিন্তু দীর্ঘ অসুস্থতা ও নাগরিক জীবনের ব্যস্ততায় দীর্ঘদিন তিনি তা ছুঁতে পারেননি। তাই ইচ্ছা পূরণ না হওয়ার বেদনায় তিনি হতাশ হয়েছেন। সেই হতাশার কারণেই তিনি উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন। খ) জঙ্গলে যেতে চাওয়া...

    বাংলা বই : দ্বাদশ শ্রেণি । প্রশ্ন ও উত্তর

    বাংলা বই - দ্বাদশ শ্রেণি উচ্চমাধ্যমিক 'বাংলা বই'য়ে👨তোমাকে স্বাগত 💁 তোমার প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরটি পেতে ওপরের মেনু বারের বিষয় মেনুতে ক্লিক করো । গল্পের প্রশ্ন চাইলে ‘ গল্পের  প্রশ্ন’  ট্যাবে , কবিতার প্রশ্ন চাইলে ‘ কবিতার প্রশ্ন’ ট্যাবে ক্লিক করো ।  এভাবে প্রয়োজনীয় বিষয়ের  ট্যাবে  ক্লিক করে প্রশ্নের পাতায় যাও। সেখানে দেওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশ্ন ও উত্তর খোঁজ। অথবা নিচের প্রয়োজনীয় লিঙ্কে ক্লিক করো। সকলের জন্য শুভকামনা রইল। বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর পেতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করো। ১)  দ্বাদশ শ্রেণির গল্প 👉   প্রশ্ন ও উত্তর ২)  দ্বাদশ শ্রেণির কবিতা 👉   প্রশ্ন ও উত্তর ৩)  দ্বাদশ শ্রেণির নাটক 👉   প্রশ্ন ও উত্তর ৪)  আন্তরজাতিক কবিতা ও ভারতীয় গল্প 👉   প্রশ্ন ও উত্তর ৫)  দ্বাদশ শ্রেণির পূর্নাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ  👉  প্রশ্ন ও উত্তর ৬)  দ্বাদশ শ্রেণির শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস 👉   প্রশ্ন ও উত্তর ৭)  দ্বাদশ শ্রেণির ভাষা বিভাগ 👉   প্রশ্ন ও উত্তর   ৮)  দ্বাদ...

    ভারতের জাতীয় সংহতি ও বিছিন্নতাবাদ

    ভারতের জাতীয় সংহতি ও বিছিন্নতাবাদ নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান্ — অতুল প্রসাদ সেন  ভূমিকা : জাতীয় সংহতি হল একটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে একটি সাধারণ পরিচয় সম্পর্কে সচেতনতা। এর অর্থ হল, আমাদের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং ভাষাগত পার্থক্য থাকলেও, আমরা এই সত্যকে স্বীকার করি যে, আমরা সবাই এক। এটি কেবল একটি জাতীয় অনুভূতি নয়, এটা সেই চেতনা যা সমস্ত উপভাষা ও বিশ্বাসের মানুষকে একই প্রচেষ্টায় একত্রিত করে। জাতীয় একীকরণের সংজ্ঞা: ডাঃ এস. রাধাকৃষ্ণ বলেছেন, national integration cannot be made by bricks and mortar, mould and hammer, but it quietly grows in people’s minds through education.1️⃣ এইচ এ গণি সংজ্ঞায়িত করেছেন, “National integration is a socio-psychological and educational process through which a feeling of unity and harmony develops in the hearts of the people and a sense of common citizenship or feeling of loyalty to the nation is fostered among them”2️⃣ এককথায়, জাতীয় সংহতির ধারণার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং মনস্তাত্ত্...

    আমাদের মনে হয় এর নাম হওয়া উচিত ‘অভাব’ নাটক

    “আমাদের মনে হয় এর নাম হওয়া উচিত ‘অভাব’ নাটক।” — ২০১৫ আমাদের মনে হয় এর নাম হওয়া উচিত ‘অভাব’ নাটক। 🔘 অভাবের চিত্র ‘বিভাব’ নাটকে কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে লেখো। নাট্যকার শম্ভু মিত্রের লেখা ‘বিভাব’ নাটকে আমরা দেখতে পাই একজন ভদ্রলোক সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্র ঘেঁটে শম্ভু মিত্রের লেখা নাটকের নাম দিয়েছেন ‘বিভাব’। ‘বিভাব’ শব্দের অর্থ হল, মনের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া শোক, হাস্য, রাগ, রতি, আনন্দ ইত্যাদি নয়টি রসানুভূতির হেতু বা কারণ। কিন্তু নিজের নাট্য ভাবনা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই নামের বিরোধ খুঁজে পেয়েছিলেন নাট্যকার শম্ভু মিত্র। প্রবল অভাব থেকেই তাদের এই নাটকের জন্ম। তাই, নাট্যকারের মনে হয়েছে, তাদের এই নাটকের নাম ‘বিভব’ নয়, হওয়া উচিত ‘অভাব নাটক’। একটি নাটকের সুস্থ উপস্থাপনা এবং ভালো প্রযোজনার জন্য দরকার হয় ভালো মঞ্চ, দৃশ্য অনুযায়ী মঞ্চসজ্জা, দৃশ্যপট, আলোক প্রক্ষেপণের কৃৎকৌশল ইত্যাদি। কিন্তু অর্থনৈতিক দৈন্য নাটক অভিনয়ে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর এ কারণে, এই নাটক মঞ্চস্থ করার সময় কোন ভাল মঞ্চ ছিল না, ছিলনা আলো বা ঝালর জাতীয় মঞ্চ সজ্জার বিভিন্ন উপকরণ। থাকার মধ্যে ছিল শুধু নাটক...

    মহুয়ার দেশ’ কবিতায় কবি মহুয়ার দেশে যেতে চান কেন? সেখানে তাঁর আশাভঙ্গের কারণ কী?

    ‘মহুয়ার দেশ’ কবিতায় কবি মহুয়ার দেশে যেতে চান কেন? সেখানে তাঁর আশাভঙ্গের কারণ কী? ‘মহুয়ার দেশ’ কবিতায় কবি মহুয়ার দেশে যেতে চান কেন? সেখানে তাঁর আশাভঙ্গের কারণ কী? ভূমিকা : নাগরিক কবি সমর সেন রচিত ‘মহুয়ার দেশ’ কবিতাটি নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতায় ও একঘেয়েমিতে ক্লান্ত, একজন প্রকৃতি প্রেমিক মানুষের জীবন যন্ত্রণার অনবদ্য প্রতিচ্ছবি। মহুয়ার দেশে যেতে চাওয়ার কারণ : এই কবিতার প্রথম পর্বে কবি নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতা ও একঘেয়েমি থেকে মুক্তির জন্য প্রকৃতির মাঝে আশ্রয় নিতে চেয়েছেন। তাই এক সময় শহর জীবন ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন আদিম অরণ্যের বুকে, যেখানে আছে ‘ মেঘ-মদির মহুয়ার দেশ ’। কারণ, কবির রোমান্টিক ভাবনায় ধরা পড়েছিল, এই মহুয়ার দেশে রয়েছে দীর্ঘ দেবদারু গাছের সুদীর্ঘ রহস্যময় প্রগাঢ় ছায়া। রয়েছে ‘দূর সমুদ্রের দীর্ঘশ্বাস’, যা রাত্রের নির্জন নিঃসঙ্গতাকে আলোড়িত করে। কবির কথায়, আর দুর সমুদ্রের দীর্ঘ শ্বাস রাত্রের নির্জন নিঃসঙ্গতাকে আলোরিত করে। এ যেন, মৃদঙ্গ-করতালের বলবান শব্দের ঘনঘটার মধ্যে বেহালার একটি তারের একটানা তান যেমন সকলকে ছাপিয়ে বুকের ভেতরে বাজতে থাকে, তেম...